লেখক: সাবিত রিজওয়ান
আমি কখনো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। বরং তিন-চারবার তাদের সমাবেশেও গিয়েছি। অন্য অনেক ছাত্র সংগঠনের তুলনায় শিবিরে আমি তুলনামূলক বেশি চিন্তাশীল ও জ্ঞানী তরুণদের দেখেছি। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়।
জামায়াত নিয়ে আমার কিছু আপত্তি আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা পুরো সংগঠনকে নিয়ে নয়। তিন-চারজন নেতার আচরণ আমার কাছে ইসলামি আদর্শের সঙ্গে অসংগত মনে হয়েছে। এই সমালোচনার জায়গাটা দলগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ইসলামকে ভালোবাসা থেকেই আসে। কারণ ইসলাম শুধু মতাদর্শ না, ইসলাম প্রথমে আচরণ, মানবিকতা, ন্যায়বোধ।
আমার লেখায় কেউ কি কখনো ইসলামবিরোধী লাইন দেখেছেন? আমি বিশ্বাস করি না। বরং আমি চাই আমাদের দেশ ইসলামি শরিয়তের ন্যায়বোধ ও মূল্যবোধ দিয়ে পরিচালিত হোক। আমি বলছি না কোনো নির্দিষ্ট দল ক্ষমতায় আসুক। আমি বলছি, যাঁরা ইসলামি ন্যায়নীতি অনুযায়ী দেশ চালাতে পারবেন, তাঁরাই আসুন। তাতে করে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। কারণ প্রকৃত ইসলাম কখনো জুলুম শেখায় না, বরং ন্যায়, সহনশীলতা আর মানবিকতা শেখায়।
আমরা যদি বুঝতে পারি, আল্লাহ আর ভগবান শব্দ আলাদা হলেও স্রষ্টা একজনই, তাহলে মানুষের মধ্যে এই অকারণ দ্বন্দ্ব অনেকটাই শেষ হয়ে যেতে পারে। আপনি মানুষ, আমিও মানুষ। ধর্ম তো মানুষকে আলাদা করার জন্য না, মানুষকে ভালো করার জন্য।
আমি সেই জামায়াতের নেতাদেরও বলব, যাঁদের আচরণ আমাকে কষ্ট দিয়েছে, আপনারা আচরণ বদলান। নবীর আদর্শ অনুসরণ করুন। কারণ নবীকে শুধু মুসলমান নয়, সব ধর্মের মানুষ ভালোবাসতেন। ইসলাম মানেই শান্তি। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। আর সেই শান্তির ইসলাম যদি আমরা আচরণে ধারণ করতে পারি, তাহলে রাজনীতি নয়, সমাজই বদলে যাবে।