মোঃ আছাদুল হক, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের মো. হানিফ ও শারমিন আক্তার পলির সংসার শুরু হয়েছিল ভালোবাসা আর স্বপ্ন নিয়ে। একই গ্রামের মানুষ, পরিচয় থেকে প্রেম—তারপর পরিবারকে জানিয়ে বিয়ে। সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক, সুখের। কিন্তু হঠাৎ করেই হানিফের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ অন্ধকার।
চাকরির সুবাদে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন হানিফ। দুমাসের বেশি সময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি ফিরে আসেন। আর সেই সময়টাতেই বদলে যায় তার সংসারের গল্প।
হানিফ অভিযোগ করেন, তাঁর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে স্ত্রী শারমিন আক্তার পলি পিতা-মাতার পরামর্শে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সুস্থ হয়ে উঠে স্ত্রীকে ফেরাতে একের পর একবার শ্বশুরবাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন হানিফ। বসানো হয় গ্রাম্য সালিসও। কিন্তু কোনো কিছুরই ফল হয়নি। ভালোবাসার মানুষ আর ফিরে আসেননি।
শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ফেরত পেতে আদালতের দারস্থ হন হানিফ। ঠিক সেই সময়েই তাঁর জীবনে নেমে আসে আরেকটি নির্মম আঘাত। কোনো প্রকার তালাক না দিয়েই পার্শ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী গ্রামে অন্য একজনের সঙ্গে শারমিন আক্তার পলির বিয়ে দেওয়া হয়—এমন খবর পান তিনি।
এর কয়েক মাস আগে লোক মারফতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় একটি কথিত নোটারি পাবলিকের তালাক রেজিস্ট্রির ফটোকপি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কাগজটি সম্পূর্ণ ভুয়া। ওই নামে কোনো নোটারি তালাক রেজিস্ট্রি হয়নি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী হানিফ বলেন, “আমাকে কোনো তালাক না দিয়েই ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আমার স্ত্রীকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
হানিফের অভিযোগ, শারমিনের পিতা আনিচুর রহমান গাজী তাঁকে নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। এতে তাঁর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্ত্রী শারমিনকে ফিরে পাওয়ার আশায়, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এখনো আদালত আর থানার দারে দারে ঘুরছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান কে একাধিকবার ফোনে কল দিয়েও তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।