• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
Headline
দূর্নীতির অভিযোগে সাভারের মুশুরী খোলা সামসুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম নজরুল ইসলাম বরখাস্ত নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে বিআরজেএ’র অভিনন্দন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জনপ্রতিনিধিসহ পিআইসিদের যতো অভিযোগ জগন্নাথপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন গার্মেন্টস শ্রমিকদের অদৃশ্য জীবন: উন্নয়নের আড়ালে লুকানো বাস্তবতা তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইন করার দাবি: ২০ হাজার নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত আবেদন জমা বকশিবাজার দরবারে ১১ মার্চ বিশেষ ফাতিহা খানি ও ইফতারি মেহফিল || শিশু ও যুব ফোরাম রামপাল উপজেলা || নারায়ণগঞ্জে ভোরে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি পিস্তল ছিনতাই।  এসআই লুৎফর রহমানকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের হামলা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর; ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান জগন্নাথপুরে আলোচিত সানলাইট ভবনকে ঘিরে আসল সত্যটা কি ?

ফরিদপুর রেকর্ড অফিস যেন ঘুষের হাট, রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লা ঘুষ নেন গুনে গুনে, ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

Reporter Name / ১২১ Time View
Update : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫

 

স্টাফ রিপোর্টার

ফরিদপুর রেকর্ড অফিস যেন ঘুষেরহাটে পরিনত হয়েছে। যেখানে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করতে দেখা গেছে। খোদ ফরিদপুরের রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লা ঘুষ নেন গুনে গুনে। ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ইতিপূর্বে ভাইরাল হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার ভুক্তভোগীরা মাসুদ আলী মোল্লার শাস্তি দাবি করেন এবং এই ঘুষখোর মাসুদকে অবিলম্বে প্রত্যাহার সহ উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,
ফরিদপুরের রেকর্ড অফিসে ৩য় তলায় প্রকাশ্যে রেকর্ড অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছেন। রেকর্ড রুম নয় যেন একটি ঘুষের হাট। ফরিদপুরের রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লার ঘুষ নেন গুনে গুনে। সেই ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এঘটনা নিয়ে এলাকায় তোড়পাড় চলছে।

এছাড়া মাসুদ আলীর নিকট ভাঙ্গার জনৈক হাচান একটি কাগজ উঠাতে তিন দফায় ৮ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে কিন্ত ২মাস পার হলেও তিনি কাগজটি দেন নাই। এরপর মাসুদ আলী মোল্লা কাগজ নিয়ে প্রায় ৩মাস ঘুরাইতে থাকেন। এরপর তিনি আরো ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ভাঙ্গার এক সাংবাদিককে দিয়ে আরো ৪ হাজার টাকা মাসুদ আলী মোল্লার হাতে দেন। সেই ঘুষের টাকা তিনি (মাসুদ আলী মোল্লা) গুনে গুনে ঘুষ নেন। টাকা নেওয়ার পর তিনি তিনি কাগজটি দেন নাই। পরে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মাসুদ আলী মোল্লা ।

বোয়ালমারি উপজেলায় মামুন জানান, কাগজ তুলতে এসে দেখি অবাক কান্ড। দালালেরা বলে কাকা কি কাজে আসছেন। ২টা দলিল উঠাতে দিলাম ৫ হাজার টাকা নিলো। ২ সপ্তাহ ঘুরে আরো ২ হাজার টাকা দিতে হলো। এখানে যাহারা কাজ করে সবাই ঘুষ খায়। আমাদের টাকা না দিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে না।

এ ছাড়া কয়েকজন ভুক্তভোগীর মধ্যে নগরকান্দার জনৈক বাবু বলেন, আমার কাছ থেকে মাসুদ আলী ৪ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন কিন্তু আমার কাজটি করেন নাই।

ভাঙ্গার জনৈক সাহেবআলী জানান, মাসুদ মোল্লা আমার কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে। কাজটা করে দেয় নাই এবং আমার টাকাও ফেরত দেয় নাই। তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

মধুখালি উপজেলার ৮০ বছরের আব্দুল করিম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, হলুদ গেঞ্জি পরা রেকর্ড অফিসের এক কর্মচারী ৫ হাজার টাকা ঘুস নিয়েছে। সে কাজ না করে আমাকে বারবার ঘুরাইতেছে।

সদরপুরের আবুল কালাম নামের এক কৃষক বলেন, কালো গেঞ্জি সাদা চেক পরা রেকর্ড অফিসে এক কর্মচারীকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্ত সে আংশিক কাজ করেছে এবং আরও টাকার জন্য বারবার ঘুরাইতেছে।

তবে রেকর্ড অফিসে কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আলী মোল্লা নেতৃত্বে ১০-১২ জন দালাল চক্র তৃতীয় তালায় রেকর্ড অফিসে ঘোরাঘুরি করেন। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল লোকজন কাজের জন্য আসলে তার নিকট থেকে চুক্তিতে টাকা নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। চক্রটি টাকা নেওয়ার পর কাজ না করে আরো অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। এ ঘটনার মূল নায়ক মূল নায়ক মাসুদ আলী মোল্লার নেতৃত্বে নিয়ে থাকেন। তার শাস্তি দাবী করে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার সহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে এলাকাবাসীর জানায়, তবে মাসুদ আলী মোল্লা নামের ভাঙ্গা উপজেলা মানিকদাহ ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামে যে তার বাড়ি এটা কেউ জানেন না। গ্রামের লোকজন জানেন তার নাম মোঃ শাহাবুদ্দীন মোল্যা, তার পিতার নাম -সুলতান মোল্যা, গ্রাম- জাহান পুর, ইউনিয়ন – মানিকদাহ।
সে ২০/২৫ বছর পুর্বে মানিকদহ ইউনিয়ন পরিষদ হতে চেয়ারম্যান পদে মোমবাতি মার্কায় নির্বাচন করেছিলো। বর্তমানে তার নাম মাসুদ আলী মোল্লা কিভাবে হলো আমাদের বোধগম্য নয়। সে রেকর্ড রুমে চাকরির সুবাদে ৩ কোটি টাকা মূল্যের আলিশান রাজপ্রাসাদ তৈরি করেছেন। সে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্টার বলেন, ঘুষ লেনদেনর বিষয় আমি তাকে তিন দিনের ভিতরে জবাব দাখিল করতে বলেছি। উপযুক্ত জবাব না দিতে পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

সমাজচেতনা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা

bdit.com.bd