সাবিত রিজওয়ান
কেউ কি প্রশ্ন করবেন না, কেন আমি নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের অনেক আগেই বলেছিলাম—এবার বিএনপি সরকার গঠন করুক? আমিও তো চাই একটি ইসলামী দল রাষ্ট্র পরিচালনায় আসুক। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি, তা আমার ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।
আমি দেখেছি, জামায়াত বা তাদের অঙ্গসংগঠনের কেউ আমাকে গুরুত্ব দেয়নি। এমন আচরণ করেছে যেন আমাকে চিনেই না। আরও অবাক হয়েছি দেখে যে, আগে যারা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিল, তারাই এখন জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সেজে ঘুরছে। যদি জামায়াত সরকার গঠন করত, হয়তো তাদের কাছেই গুরুত্ব পেত সেই পুরোনো সুবিধাভোগীরাই। সাধারণ সমর্থক বা কর্মীরা ততটা মূল্য পেত কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আমার মনে হয়েছে, জামায়াত একটি মুখোশ পরে রাজনীতি করেছে, বা এখনো করছে। তাদের অনেক কিছুই ছিল আড়ালে। পক্ষান্তরে বিএনপি খোলামেলাভাবেই ছিল। নির্বাচনের আগে বিএনপির ভুল আমরা দেখেছি, তাদের সমালোচনাও শুনেছি। কিন্তু অন্তত তাদের অবস্থান প্রকাশ্য ছিল। জামায়াতের ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ই ছিল আড়ালের অন্তরালে।
আমি চাই না বিএনপি কোনোভাবে স্বৈরাচারী হোক। আমি চাই তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের সেবক হোক। নির্বাচনের আগে কেউ আমার কাছে এসে ভোট চায়নি। আমি ছাত্রশিবিরের সঙ্গেও চলাফেরা করেছি, এমনকি জামায়াতকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলাম। তবে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের বিজয়ে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি।
আমার এই অবস্থান কোনো দলবিদ্বেষ থেকে নয়, বরং নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থেকেই। রাজনীতি শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই হওয়া উচিত, মুখোশের জন্য নয়।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি: আহমেদ হোসাইন ছানু। সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। ইমেইল: sabit.rizwan@yahoo.com। কার্যালয়: রংপুর, বাংলাদেশ।
© ২০২৫ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।