নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানের পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণার পর বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অধ্যাদেশ জারির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, তার এই ঘোষণার বিরুদ্ধেও নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তবে একই সঙ্গে তারা এটাও উল্লেখ করছেন, মামলা করার ঘোষণা আর আদালতে মামলা প্রমাণ হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আদালতই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবেন কোনো সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী কি না। ফলে আগাম অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অধ্যাদেশ জারির সংখ্যাকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে বিষয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ কার্যকর না থাকলে বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশ জারি একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী বা পরিবর্তনকালীন সময়ে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফলে অধ্যাদেশের সংখ্যা বেশি হওয়া নিজেই অসাংবিধানিক প্রমাণ করে না; বরং প্রতিটি অধ্যাদেশের বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপটই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানোও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনার বিচার ও দায় নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। অভিযোগ বা বক্তব্যের ভিত্তিতে সরাসরি দায় নির্ধারণ করা আইনের শাসনের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তি সাধারণত রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের অংশ এবং তা নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পাদিত হয়। এসব চুক্তি নিয়ে আপত্তি থাকলে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে, যা একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া নতুন নয়। এগুলো একদিকে যেমন আইনের শাসনের অংশ, অন্যদিকে রাজনৈতিক অবস্থান ও মতবিরোধের প্রতিফলনও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই মামলা ঘোষণার ঘটনা দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রমাণ, আইনি যুক্তি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি: আহমেদ হোসাইন ছানু। সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। ইমেইল: sabit.rizwan@yahoo.com। কার্যালয়: রংপুর, বাংলাদেশ।
© ২০২৫ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।