আল-কোরআন ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি। মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত এক অনন্য অলৌকিক গ্রন্থ , যা শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। কোরআনের প্রত্যেকটি শব্দ, অক্ষর এবং অর্থে রয়েছে এমন গভীরতা ও প্রজ্ঞা যা মানব মস্তিষ্ককে চিন্তা ও গবেষণার জন্য আহ্বান করে।
প্রায় ১৪০০ বছর আগে নিরক্ষর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে এই কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিলো। তখনকার যুগে বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতি কিংবা সমাজব্যবস্থা আজকের মতো এতো উন্নত ছিল না, অথচ কোরআনের ভাষা, শৈলী ও ভাব এত উচ্চমানের যে, সে সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিকরাও তা অনুকরণ করে তৈরি করতে পারেননি। কোরআনের এই ভাষাগত সৌন্দর্যই প্রমাণ করে এটি কোনো মানব রচিত গ্রন্থ হতে পারে না, বরং আল্লাহর বাণী।
কোরআনের নির্দেশনাগুলো শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। এটি মানুষকে ন্যায়, দয়া, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কে শেখায়। এতে বলা হয়েছে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশ ও মানবতার প্রতি দায়িত্ববোধের কথা, নারী-পুরুষের অধিকার , প্রাণীর অধিকার , সৃষ্টির অধিকার সহ এমন কোন বিষয় নেই যে এতে বাদ আছে। এমনকি আধুনিক বিজ্ঞান যখন মহাবিশ্ব, ভ্রূণের সৃষ্টি বা সমুদ্রের রহস্য উন্মোচন করছে, তখন দেখা যায়—মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে শত শত বছর আগেই সেসব বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মাথা খাটিয়ে গবেষণা করে এগুলোর খুঁটিনাটি বিচার-বিশ্লেষণ , গভীর তত্ব বের করতে হবে।
আল-কোরআন এমন এক মু’জিজা যা শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত মানব জাতির জন্য অনুসরনীয়। এটি শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয় বরং এটি হৃদয়কে আলোয় ভরিয়ে দেয়, মনের অন্ধকার দূর করে এবং মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পথে চলার শিক্ষা দেয়। যতই যুগ পরিবর্তিত হোক, যতই প্রযুক্তি উন্নত হোক কোরআনের বাণী আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, প্রেরণাদায়ক ও চিরন্তন সত্যের প্রতীক। অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থগুলো যেমন শুধুমাত্র কোন এক নবীর সাথে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আল-কোরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য; শুধুমাত্র নির্ধারিত কোনো মানব গোষ্ঠীর জন্য নয়। আল কুরআনের সবচাইতে বড় মু’জিজা হলো এর অপরিবর্তনীয়তা। কেয়ামত পর্যন্ত আল কুরআনের একটি অক্ষর মাত্রও কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল কুরআন মোতাবেক জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।