• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
Headline
দূর্নীতির অভিযোগে সাভারের মুশুরী খোলা সামসুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম নজরুল ইসলাম বরখাস্ত নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে বিআরজেএ’র অভিনন্দন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জনপ্রতিনিধিসহ পিআইসিদের যতো অভিযোগ জগন্নাথপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন গার্মেন্টস শ্রমিকদের অদৃশ্য জীবন: উন্নয়নের আড়ালে লুকানো বাস্তবতা তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইন করার দাবি: ২০ হাজার নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত আবেদন জমা বকশিবাজার দরবারে ১১ মার্চ বিশেষ ফাতিহা খানি ও ইফতারি মেহফিল || শিশু ও যুব ফোরাম রামপাল উপজেলা || নারায়ণগঞ্জে ভোরে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি পিস্তল ছিনতাই।  এসআই লুৎফর রহমানকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের হামলা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর; ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান জগন্নাথপুরে আলোচিত সানলাইট ভবনকে ঘিরে আসল সত্যটা কি ?

১২৮ বোতল ভারতীয় মদসহ এক যুবক গ্রেপ্তার

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

আনোয়ার হো‌সেন র‌নি, ছাতক, সুনামগঞ্জ।

 

সুনামগঞ্জের ছাতক নৌ–পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ১২৮ বোতল ভারতীয় মদসহ শামিম মিয়া (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানার শিলাকুড়ি গ্রামসংলগ্ন কাটাগাং নদীর দক্ষিণাংশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেন ছাতক নৌ–পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নি:) মোঃ আনোয়ার হোসেন। নৌ–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় তৈরি মদের একটি বড় চালান নদীপথে পাচার হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগের রাত থেকেই কাটাগাং নদীপাড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সন্দেহভাজন একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নদীর দক্ষিণপ্রান্তে ঢুকলে পুলিশ সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। প্রথমে নৌকার সাধারণ মালপত্রে তেমন কিছু না পাওয়া গেলেও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাটাতনের নিচের অংশে তল্লাশি চালাতে গিয়ে লুকানো মদের চালানটি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকারী পুলিশ সদস্যরা জানান, আসামি শামিম মিয়ার দেখানো মতে নৌকার গোপন কুঠরি থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১২৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ৪৮ বোতল ‘এসি ব্ল্যাক’, ৩৯ বোতল ‘ম্যাকডোনাল্ড’ এবং ৪১ বোতল ‘অফিসার্স চয়েস’। উদ্ধার করা এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। গ্রেপ্তারকৃত শামিম মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার নুরপুর (প্রকাশ কাদিরপুর) আমিরপুর বাজার এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। নৌ–পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরেই সে নদীপথ ব্যবহার করে ভারতীয় মদ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আটক করার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে উদ্ধারকৃত মদ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি জব্দ করা হয়। পরে তাকে ফাঁড়িতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পাচারচক্র সম্পর্কে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কিছুদিন ধরে কাটাগাং নদীপথ দিয়ে ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু নৌ–পুলিশের নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারির কারণে পাচারকারীরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের বড় এই চালান জব্দের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নদীভিত্তিক পাচারচক্র দমনে নৌ–পুলিশের এমন সফল অভিযানকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নি:) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
“গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করেছি। নদীপথ ব্যবহার করে মদসহ বিভিন্ন মাদক পাচার করা হচ্ছে—এই চক্রকে শনাক্ত ও আটকে দিতে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। আটককৃত যুবকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও নদীপথে মাদক পাচার রোধে নৌ–পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় ছাতক ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে যে, নদীপথে অবৈধ মদ পাচারের সঙ্গে জড়িত কেউই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যেতে পারবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

সমাজচেতনা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা

bdit.com.bd