আবিদ হাসান, রামপাল, বাগেরহাট।
আজ ০৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস
” আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার ”
পৃথিবীর সকল নারীকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা। মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারী শুধু একটি পরিচয় নয়,তিনি জীবন, তিনি সৃষ্টির ধারক, তিনি মমতা, প্রজ্ঞা ও সাহসের এক অনন্ত উৎস। মায়ের কোমলতা, বোনের স্নেহ, বন্ধুর সহমর্মিতা কিংবা সহযাত্রীর প্রেরণা,,নারীর উপস্থিতিতেই মানবজীবন পূর্ণতা পায়।
সভ্যতার প্রতিটি অগ্রযাত্রার পেছনে নারীর নীরব ত্যাগ, শ্রম, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার গভীর ছাপ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো,আজও পৃথিবীর অনেক সমাজে নারীরা বৈষম্য, সহিংসতা ও অনিরাপত্তার শিকার। এই বাস্তবতা আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে, আমাদের মানবিকতাকে জাগিয়ে তোলে।একটি সভ্য সমাজের প্রথম শর্ত হলো নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করা। যেখানে নারীর সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে, সেখানে ন্যায়বোধ শক্তিশালী হয়, মানবতা বিকশিত হয়, এবং সমাজ সত্যিকার অর্থেই আলোকিত হয়ে ওঠে। তাই নারীর শিক্ষা, অধিকার, স্বাধীনতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কেবল কোনো দাবি নয়,এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের অপরিহার্য শর্ত।বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একজন নারী যেন নির্ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেন, শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন, কর্মক্ষেত্রে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন,এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রতিটি সচেতন মানুষের দায়িত্ব। কারণ নিরাপত্তাহীনতা শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত বেদনা নয়,,এটি পুরো সমাজের নৈতিক পরাজয়।
নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ শুধু আইন ভঙ্গ নয়,এটি মানবতার বিরুদ্ধে গভীর আঘাত। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজকে হতে হবে শূন্য সহনশীল। দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা প্রয়োজন, যাতে অন্য কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। ন্যায়বিচার কেবল একজন ভুক্তভোগীর অধিকার নয়,এটি পুরো সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।একই সঙ্গে আমাদের মানসিকতা ও সামাজিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে পরিবার থেকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, এবং সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে। কারণ প্রকৃত পরিবর্তন শুধু আইনের মাধ্যমে নয়,,মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও বিবেকের পরিবর্তনের মাধ্যমেই আসে।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব,যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান মর্যাদায় বাঁচবে, যেখানে কোনো মেয়ে তার স্বপ্ন দেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, যেখানে কোনো নারী নিরাপত্তাহীনতার ভয় নিয়ে জীবনযাপন করবে না।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরা শুধু শুভেচ্ছা জানাই না,আমরা প্রতিজ্ঞা করি।নারীর সম্মান রক্ষা করব, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দাঁড়াব, এবং অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হব।কারণ মনে রাখতে হবে,নারীর মর্যাদা রক্ষা করা মানে মানবতার মর্যাদা রক্ষা করা।নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা।
পৃথিবীর সকল নারীর প্রতি আবারও জানাই গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
।শুভেচ্ছায়।
( রামপাল উপজেলা শিশু ও যুব ফোরাম )
রামপাল এরিয়া প্রোগ্রাম, World Vision Bangladesh