স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ইসহাকপুর (শাসনহবি) এলাকায় গরুর মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ১৭টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসহাকপুর গ্রামের জিয়াউর খাঁন ও আবরু মিয়ার মধ্যে একটি গরুর মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
ভুক্তভোগী আশরাফুল মিয়া জানান, তাদের একটি গরু চুরি করে জিয়াউর খানের বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। পরে গরুটি উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলে প্রতিপক্ষ সেটিকে নিজেদের দাবি করে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
বুধবার সন্ধ্যায় এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত শানুর মিয়া (৫৫)-কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন আলিফ উদ্দিন (৫০), ইসলাম উদ্দিন (৫২), রিপন মিয়া (৩৪), আবরু মিয়া (৪৮) ও আরিফ মিয়া (১৭)। অপরদিকে প্রতিপক্ষের জিয়াউর খাঁ,মগল খাঁ ও আক্তার খাঁ গুরুতর আহত হয়েছেন।
সন্ধ্যার সংঘর্ষের জেরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত শাসনহবি এলাকায় পুনরায় হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই থেকে আড়াইশ ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পুরুষশূন্য বসতবাড়িগুলোতে হামলা চালায়।
ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ শাবানা বেগম বলেন, “রাতের আঁধারে হামলাকারীরা আমাদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাঁরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।”
স্থানীয়দের দাবি, হামলায় অন্তত ১৭টি পরিবারের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নগদসহ মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ ঘটনার জন্য স্থানীয় সালিশি ব্যক্তি আছকির খাঁকে দায়ী করলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও ঘটনার সময় তিনি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনার খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।