• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় “বঙ্গবীর নবাব আলিবর্দী খানকে স্মরণ

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রিয় নানাজান, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেশপ্রেমী নবাব “বঙ্গবীর আলিবর্দী খান” (জন্ম :- ১৯ সেপ্টেম্বর ১৬৭৪ ইং ; মৃত্যু :- ১০ এপ্রিল ১৭৫৬ ইং)। বাংলার এই সফল নবাবের ভালোবাসায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো আজ ১০এপ্রিল ২০২৬ইং।
বাংলাদেশ সাপোটার্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা, বরেণ্য রেমিট্যান্সযেদ্ধা, কলামিষ্ঠ রাস্ট্রীয়বাদী চেতনার জনক ও স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল এর আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা নবাব সিরাজউদ্দৌলার ৯ম বংশধর ; সম্পাদক – সাপ্তাহিক পলাশী । উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ ছিলেন দেশ বরেণ্য খ্যাতিসম্পন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -(দৈনিক ইত্তেফাক এর সিনিয়র সাংবাদিক জনাব ফাইজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক ফারহানা নীলা (সারা বাংলা.নেট) বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, জাতীয় বভাক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সহ সভাপতি ও রাস্ট্রচিন্তক কবি ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া সহ সমাজের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদ (এন.এস.এস.পি) -এর সম্মিলিত দেশপ্রেমী টিম। অনুষ্ঠানটি সফল করতে সুদূর প্রবাস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ সাপোটার্স ফোরাম, প্রতিষ্ঠাতা, রেমিট্যান্সযেদ্ধা, কলামিষ্ঠ ও স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল ও জনাব ফারুক চৌধুরী (চেয়ারম্যান- কাবা ফাউন্ডেশন, যুক্তরাজ্য)। অনুষ্ঠানটির প্রধান মিডিয়া পার্টনার ছিল সাপ্তাহিক পলাশী (প্রতিষ্ঠাতা – মরহুম শিল্পপতি রাজনীতিবিদ শিক্ষাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ ফজলুল হক)।
উল্লেখ্য নবাব আলীবর্দী খান (১৬৭৬-১৭৫৬ প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন। সুজাউদ্দীনের শ্বশুর মুর্শিদকুলী জাফর খানের মৃত্যুর পর মির্জা মুহম্মদ আলী সুজাউদ্দীনকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেন। মুর্শিদকুলীর পুত্রসন্তান না থাকায় সুজাউদ্দীনই ছিলেন বাংলার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী। কিন্তু জামাতা এবং শ্বশুরের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল না। ১৭২৭ সালে মুর্শিদকুলীর মৃত্যুর পর সুজাউদ্দীন মির্জা মুহম্মদ আলীর চেষ্টায় বাংলার মসনদে আরোহণে সমর্থ হন। পরামর্শ এবং অকৃত্রিম সেবার জন্য সুজাউদ্দীন মির্জা মুহম্মদ আলীর পরিবারকে নানাভাবে পুরস্কৃত করেন। তিনি ১৭২৮ সালে মির্জা মুহম্মদ আলীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন এবং তাকে ‘আলীবর্দী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
কর্মদক্ষতার কারণে আলীবর্দী খান সুজাউদ্দীনের সুনজরে আসেন এবং নিজের অবস্থান অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন ও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৭৩৯ সালে সুজাউদ্দীনের মৃত্যু হলে তার পুত্র সরফরাজ বাংলার মসনদে আসীন হন। কিন্তু মাত্র এক বছর এক মাসের মধ্যেই তার সরকারের পতন হয়। যেসব সরকারি কর্মকর্তা সুজাউদ্দীনের আমলে তার অনুগত ছিল তারাই সরফরাজের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সে সময় দিল্লি সাম্রাজ্যের ওপর বৈদেশিক আক্রমণ এসব ক্ষমতালিপ্সু কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের সহায়ক হয়। দিল্লির বাদশাহ মুহম্মদ শাহ নাদির শাহের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন। অত্যন্ত সতর্কতা ও পারদর্শিতার সঙ্গে পরিকল্পনা করে আলীবর্দী খান বাংলার সুবাহদারি লাভের প্রয়াস পান। ১৭৪০ সালে দিল্লির রাজদরবারে অবস্থানরত তার এক বন্ধুর সহযোগিতায় তিনি দিল্লির বাদশাহ মুহম্মদ শাহের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িষ্যা শাসনের সনদ লাভ করেন। ১৭৪০ সালে সংঘটিত গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজকে পরাজিত করেন। সে বছর এপ্রিল মাসের শেষ দিকে তিনি বাংলার নওয়াব হিসাবে বাদশাহ মুহম্মদ শাহের স্বীকৃতি লাভ করেন। আলীবর্দী খান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার মৃত্যু আসন্ন ভেবে তিনি তার দৌহিত্র ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সিরাজউদ্দৌলাকে কাছে ডেকে দেশ শাসন সম্পর্কিত মূল্যবান উপদেশ দেন। তিনি ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল ৮০ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। কর্মদক্ষ ও দূরদর্শী শাসক হিসাবে নবাব আলীবর্দী খান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
সম্রণ সভা শেষে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

সমাজচেতনা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা

bdit.com.bd