কলমেঃ শিরিনা আক্তার
একদা এক গানের সুর
নিভৃত সন্ধ্যার নির্জনতায়
নীরবে এসে ছুঁয়ে গেল হৃদয়—
তারপর অচেনা কোনো গহীনে
হারিয়ে ফেললো আমার মন।
তালহীন, লয়হীন, ছন্দভ্রষ্ট এই প্রাণ
অস্থির হাওয়ার দোলায় দুলে ওঠে,
বৈশাখীর আকস্মিক ঝড়ে
ছিন্নভিন্ন হয় স্মৃতির পল্লব—
অব্যক্ত বেদনায় কেঁপে ওঠে অন্তর।
সুমধুর সেই কণ্ঠস্বর
কালের অনন্ত স্রোতে ভেসে গিয়ে
হয়ে গেল এক বিস্মৃত অনুরণন;
তবু তার ক্ষীণ প্রতিধ্বনি
আজও বেজে ওঠে নিভৃত হৃদয়ের গহনে।
নির্ঘুম রাতগুলো
বিবর্ণ বিকেলের দীর্ঘশ্বাস হয়ে
ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে সময়ের বুকে;
চোখের দীপ্তি ম্লান হয়ে আসে,
সবকিছু ঢেকে যায় এক ঝাপসা কুয়াশায়।
আমি খুঁজে ফিরি—
ফেলে আসা দিনগুলোর নীরব প্রান্তর,
যেখানে কারো পায়ের নূপুর
রিনিঝিনি সুরে জাগাতো
কৈশোরের নির্মল স্বপ্ন।
ভেলায় ভেসে থাকা সেই দিন—
শাপলা-শালুকের স্নিগ্ধ জলভূমি,
আজ তা কেবলই স্মৃতির মায়াবী আবরণ,
স্পর্শহীন, অথচ অসীম বেদনাময়।
মরমী মন, বলো—
ফিরে কি পাবে আর সেই দিনক্ষণ?
যে ভালোবাসা একদিন
নির্মল আলোর মতো ভরে দিয়েছিল জীবন,
আজ তা কেন শুধু বিরহের বিষাদ হয়ে ঝরে?
নিশীথের নিঃসঙ্গতায়
শুনি অতীতের ক্ষীণ আর্তনাদ,
তবু ছুঁতে পারি না আর
সেই হারানো সুরের উষ্ণতা।
শুধু থেকে যায়—
এক অন্তহীন প্রতীক্ষা,
অকথিত আকুলতা,
আর এক মরমী মন—
যে এখনো ভালোবাসে,
নিঃশেষে, নিঃশব্দে, নিরন্তর বিরহে।